দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ হাজারের বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু রোধে রাজনৈতিক দলগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল ও জোটগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল চৌধুরী এই দাবি জানান। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকারের অদূরদর্শিতা এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন, পরিবহন পরিকল্পনায় ভুল থাকার কারণে দেশের শহর ও শহরতলীর বাস নেটওয়ার্ক বর্তমানে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি মনে করে, সড়ক নিরাপত্তা কেবল একটি নাগরিক সমস্যা নয়, এটি একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর হাজার হাজার কর্মক্ষম মানুষের মৃত্যু দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি তাদের ইশতেহারে আধুনিক বাস সার্ভিস প্রবর্তন, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং সড়ক নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবেই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব। নির্বাচনে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দলগুলো অনেক জনমুখী প্রতিশ্রুতি দিলেও নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়টি প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে। মোজাম্মেল চৌধুরীর মতে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কোনো বিকল্প নেই। তাই সব দল ও জোটের ইশতেহারে সড়ক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, বড় বাসের পরিবর্তে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহনের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। এর ফলে একদিকে যেমন যানজট প্রকট হচ্ছে, অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনাও বাড়ছে। সড়কে বিশৃঙ্খলা, ভাড়ার নৈরাজ্য এবং অরাজকতার কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।
–লামিয়া আক্তার










