রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্যদের বড় অংকের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
আদালত দুটি পৃথক মামলার রায়ে শেখ হাসিনাকে ৫ বছর করে মোট ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এছাড়া তার পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে: টিউলিপ সিদ্দিক (ব্রিটিশ এমপি) ৪ বছরের কারাদণ্ড। রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। আজমিনা সিদ্দিক ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক ৬টি মামলার মধ্যে আজ তিনটির রায় ঘোষণা করা হলো। অভিযুক্তদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্লট বরাদ্দের প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার অপরাধে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ ১৪ জনকে ৫ বছর করে মোট ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন এবং রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞাসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
কারাগারে থাকা রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে দুই মামলায় ১ বছর করে মোট ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় কেবল খুরশীদ আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন; শেখ হাসিনাসহ বাকি সব আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে রাজউকের নীতিমালা লঙ্ঘন করেন। পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে পরিবারের সদস্যরা অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ১০ কাঠা করে দামী প্লট বরাদ্দ নেন। এই দুর্নীতির অভিযোগে গত বছর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ৬টি মামলা দায়ের করে। গত ৩১ জুলাই আদালত শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেছিলেন।
–লামিয়া আক্তার










