গাজীপুরের কালীগঞ্জে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে চিহ্নিত ছিনতাইকারী মিঠু পাঠানসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহৃত এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে পৃথক ঘটনায় ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এসব তথ্য জানায় কালিগঞ্জ পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন জাহিদ হাসান তামিম (১৯), সাগর (২৫), মিঠু পাঠান (৪০) ও কনক মিয়া (২১)। এ ছাড়া পৃথক অভিযানে মাদক কারবারি সানি মিয়া (২২) ও জাহিদুলকে (২৬) ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে প্রাণ আরএফএল কম্পানির ছুটি শেষে বাসায় ফেরার পথে মো. হক সাব (২৪) নামের এক যুবক কালীগঞ্জ থানাধীন মূলগাঁও এলাকায় ৩ নম্বর গেটের সামনে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তাকে অপহরণ করে। পরে তাকে মূলগাঁও চৌকিদারবাড়ির পেছনের কাঠ বাগানে নিয়ে গিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ৪ হাজার টাকা নেওয়ার পরও অপহরণকারীরা আরো ১০ হাজার টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে দিয়ে তার স্ত্রীকে ফোন করিয়ে বিকাশে টাকা পাঠাতে বলা হয়।
বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগীর স্ত্রী কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।
পরে শুক্রবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে দেওপাড়া এলাকায় সেভেন রিংস কোম্পানির ৫ নম্বর গেটের সামনে থেকে জাহিদ হাসান তামিম ও সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে অপহৃত ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে মিঠু পাঠান ও কনক মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মিঠু পাঠানের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি, অপহরণ ও মাদকসহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে। অপর আসামি কনক মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতি, চুরি ও অপহরণের ৩টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া পৃথক অভিযানে মাদক কারবারি সানি মিয়া ও জাহিদুলকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাদের প্রত্যেককে ৩ মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মাসুদ রানা শামীম জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
-সাইমুন