চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নে গভীর নলকূপের জন্য খোঁড়া গর্তে পড়ে মেজবাহ উদ্দিন নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে গর্তে পড়ে যাওয়ার প্রায় ৪ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে আটটার দিকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের একদল। নিহত মেজবাহ উদ্দিন কদলপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বসতঘর থেকে মাত্র ৩০-৪০ ফুট দূরে চার-পাঁচ বছর আগে সরকারিভাবে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও সেখানে নলকূপ বসানো হয়নি বা গর্তটি ভরাট করা হয়নি। আজ বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির পাশে খেলার সময় অসাবধানতাবশত ওই পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয় মেজবাহ।
শিশুটি গর্তে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে সন্ধ্যায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ক্যামেরার সাহায্যে গর্তের ১২ ফুট নিচে শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। জীবন বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় পাইপের মাধ্যমে গর্তের গভীরে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাথে স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত সাড়ে আটটার দিকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, গর্ত থেকে উদ্ধারের পর শিশুটিকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা দেশে এটিই প্রথম নয়। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোরে একইভাবে পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল, যাকে ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। রাউজানের এই ঘটনা আবারও উন্মুক্ত ও পরিত্যক্ত গর্তের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।