অরিজিৎ সিং বর্তমান ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এমন এক নাম, যার কণ্ঠের জাদুতে পাগল হয়ে থাকে কোটি কোটি মানুষ। ১৯৮৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জিয়াগঞ্জে এক মিশ্র সংস্কৃতি পাঞ্জাবি বাবা ও বাঙালি মা সম্পন্ন পরিবারে তার জন্ম। আজ তিনি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হলেও তার সাধারণ জীবনযাপন এবং বিনয় তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে তুলেছে।
অরিজিতের সঙ্গীতের তালিম শুরু হয়েছিল তার নিজের বাড়িতেই। পরবর্তীতে তিনি ধ্রুপদী সঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নেন রাজেন্দ্র প্রসাদ হাজারি এবং ধীরেন্দ্র প্রসাদ হাজারির কাছে। ২০০৫ সালে ভারতের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’-এর মাধ্যমে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। যদিও তিনি প্রতিযোগিতায় জিততে পারেননি, কিন্তু তার প্রতিভা সঙ্গীত পরিচালক শঙ্কর-এহসান-লয় এবং প্রীতমের নজর কেড়ে নেয়। এরপর দীর্ঘ কয়েক বছর তিনি মুম্বাইতে মিউজিক প্রোগ্রামার এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক কম্পোজার হিসেবে কাজ করে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন।
২০১৩ সালে ‘আশিকি ২’ সিনেমার ‘তুম হি হো’ গানটি মুক্তি পাওয়ার পর অরিজিতের জীবন চিরতরে বদলে যায়। রাতারাতি তিনি ভারতের সবথেকে চাহিদাসম্পন্ন গায়কে পরিণত হন। তার কন্ঠের বিশেষত্ব হলো এর গভীরতা এবং আবেগ প্রকাশের ক্ষমতা। তিনি বিরহ, প্রেম, ভক্তি কিংবা পপ—সব ধরনের গানেই সমান পারদর্শী। তার গাওয়া ‘ছান্নায়া মেরেয়া’, ‘কেসরিয়া’, ‘আগার তুম সাথ হো’ এবং বাংলা গান ‘মন মাঝি রে’ বা ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’ সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে চিরকালীন সম্পদ।
সঙ্গীতজীবনে তিনি একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বহুবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন। তবে সাফল্যের এই চরম শিখরে পৌঁছেও তিনি তাঁর শেকড়কে ভোলেননি। আজও তিনি মুম্বাইয়ের চাকচিক্য ছেড়ে নিজের জন্মস্থান জিয়াগঞ্জে থাকতে এবং সেখানে সাধারণ মানুষের মতো স্কুটারে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন। সঙ্গীতের প্রতি তাঁর এই একনিষ্ঠ নিবেদন এবং সাধারণ জীবনবোধ তাঁকে আক্ষরিক অর্থেই এক মহান শিল্পীতে পরিণত করেছে।
শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে রক, জ্যাজ বা পপ—সব ধরণের গানেই সাবলীল ছিলেন অরিজিত। বাংলা ছবিতেও তার অবদান অসীম; ‘বোঝে না সে বোঝে না’, ‘মেঘবালিকা’, ‘বসন্ত এসে গেছে’-এর মতো গান বাঙালি শ্রোতাদের প্লে-লিস্টে বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছে।
প্লেব্যাক কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কাজ করবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, এখন থেকে আমি প্লেব্যাক কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আর কোনো নতুন কাজ করব না। আমি এখানেই ইতি টানছি। এটি সত্যিই একটি চমৎকার পথচলা ছিল।
এদিকে অরিজিতের এমন হুট করে দেওয়া ঘোষণায় ভক্তদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
কেন তিনি ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় সিনেমার গান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। তবে তিনি সিনেমার বাইরে ব্যক্তিগত প্রজেক্ট বা লাইভ কনসার্টে নিয়মিত থাকবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা দেননি।
বিথী রানী মণ্ডল/










