ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেছেন, শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার জায়গা ও নির্মল পরিবেশ নিশ্চিত করে একটি শিশুবান্ধব নগর গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
গতকাল মঙ্গলবার ডিএনসিসির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মোহাম্মদ এজাজ।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডো এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ এর আগে ‘সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার সুরক্ষা’ শীর্ষক এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, একটি শহরের দূষণ ও অব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে শিশুদের ওপর। শিশুরাই সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী। আমাদের লক্ষ্য এমন এক শহর গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি শিশু বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার মতো পরিবেশ পাবে।
শহরাঞ্চলের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়ে মোহাম্মদ এজাজ আরও বলেন, ‘আমাদের শহরভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। জাতীয় সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো মূলত গ্রামভিত্তিক হওয়ায় শহরের ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রয়োজনগুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। এই বৈষম্য দূর করা জরুরি।’
গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তরুণ সাংবাদিক মাহফুজা সুলতানা মুন্নি। তিনি শিশুদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ব্যবহার বন্ধে সব পক্ষকে সচেতন ও দায়বদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ‘লিডো’র পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর গঠন; সব শিশুর বৈধ পরিচয় (জন্ম নিবন্ধন) নিশ্চিতকরণ এবং কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি; বিনামূল্যে শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা এবং জরুরি আবাসন ব্যবস্থা; মাদকাসক্তি প্রতিরোধ, পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান; শিশুদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার না করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার।
বৈঠকে বক্তারা আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করারও আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিশু অধিকারকর্মী, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।