ইপিএসএমপি ২০২৫ অনুমোদনের উদ্যোগের প্রতিবাদে সিলেটে নাগরিক সমাজের কর্মসূচি

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২৫ বছর মেয়াদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ (ইপিএসএমপি ২০২৫) অনুমোদনের পথে পা বাড়াতেই নাগরিক সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধি সংগঠন গতকাল রোববার সিলেটে প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনাটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করেই তৈরি করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা। একইসাথে পরিবেশ ও সমাজের প্রভাব পর্যাপ্তভাবে বিবেচনা করা হয়নি এবং জনগণের অংশগ্রহণকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ।

গতকাল রোববার সকালে নগরীর উপশহরে বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি)-এর উদ্যোগে এবং আইডিয়া, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-সিলেট ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর আয়োজনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আইডিয়ার নির্বাহী পরিচালক নজমুল হকের সভাপতিত্বে এবং সঞ্চালনায় প্রতিবাদ কর্মসূচীতে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনসম্পৃক্ততা, নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। জনশুনানি ও স্বচ্ছ পরামর্শ ছাড়াই এই পরিকল্পনা অনুমোদনের চেষ্টা পূর্ববর্তী সরকারের অস্বচ্ছ ও কর্তৃত্ববাদী নীতিনির্ধারণের পুনরাবৃত্তি মাত্র।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, বর্তমান অর্ন্তবর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল কেবল নিয়মিত রাষ্ট্র পরিচালনা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই সীমা অতিক্রম করে একটি দীর্ঘমেয়াদি, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও বহুমাত্রিক প্রভাবসম্পন্ন জ্বালানি পরিকল্পনা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কোনো অর্থবহ অংশগ্রহণমূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। যেভাবে অতীতে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি আইন ব্যবহার করে বিতর্কিত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছি। ইপিএসএমপি ২০২৫ সেই একই পথে ভবিষ্যতেও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্পকে বৈধতা দেওয়ার কাঠামো তৈরি করছে।

-আহমেদ পাবেল, সিলেট