এক শিফট ও দুই শিফটে পরিচালিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য নতুন সাপ্তাহিক ক্লাস রুটিন প্রকাশ করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, এক শিফটের বিদ্যালয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রতিদিন চারটি এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ছয়টি করে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, দুই শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রতিদিন চারটি এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে পাঁচটি করে পিরিয়ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
রুটিনের সাধারণ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত বিষয়ের জন্য বরাদ্দ সময় অক্ষুণ্ন রেখে বিদ্যালয়ের সুবিধা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকরা প্রয়োজনে ক্লাস রুটিনে পরিবর্তন আনতে পারবেন। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত সপ্তাহে পাঁচ দিন, ধর্ম শিক্ষা তিন দিন এবং বিজ্ঞান চার দিন পাঠদান করতে হবে। শিল্পকলা বিষয়টি তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে সপ্তাহে দুই দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণিতে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা সপ্তাহে দুই দিন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে এক দিন পাঠদান হবে।
এ ছাড়া তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য পঠন ও লিখনদক্ষতা উন্নয়নমূলক ক্লাস সপ্তাহে এক দিন রাখা হয়েছে। রুটিনে হাতের লেখা, গল্প বলা, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, কুইক কুইজ, উদ্ভাবনী ধারণা, বিজ্ঞান, ইংলিশ স্পিকিং, এসআরএম ও কাবিংসহ বিভিন্ন সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে। নিরাময়মূলক কার্যক্রম ও এসআরএম সপ্তাহে দুই দিন পরিচালনা করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষকরা সুবিধাজনক সময়ে স্টাফ মিটিং আয়োজন করবেন। প্রতিটি প্রান্তিক মূল্যায়ন চলাকালে বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি অনুযায়ী লিখিত, মৌখিক বা ব্যবহারিক মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন সময়, ভৌগোলিক অবস্থা বা জরুরি পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজন হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় পর্যায়ে রুটিনে পরিবর্তন আনা যাবে।
যেকোনো ধরনের মূল্যায়নের উত্তরপত্র এক বছর সংরক্ষণ করতে হবে। তিনটি প্রান্তিকের গড় নম্বরই চূড়ান্ত নম্বর হিসেবে বিবেচিত হবে। পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির পাঠদান করাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের শিখনফল নিশ্চিত করা যায়।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ের মোট কর্মদিবস ও সাপ্তাহিক ক্লাস রুটিন প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী রয়েছে, সেখানে নির্ধারিত সময়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় প্রণীত পাঠ্যবইয়ের আলোকে তৃতীয় শ্রেণির শিখন-শেখানো কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।










