ভেনেজুয়েলার উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত অবরোধের কয়েক দিনের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা মন্ত্রী ক্রিস্টি নোএম বলেন, ভেনেজুয়েলার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর সঙ্গে যুক্ত একটি ট্যাংকার যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড আটক করেছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, জাহাজটি ভুয়া পতাকা ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল পরিবহন করছিল।
ভেনেজুয়েলা এই পদক্ষেপকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং বিষয়টি জাতিসংঘে তোলার ঘোষণা দিয়েছে।
নৌঝুঁকি বিশ্লেষকদের মতে, আটক জাহাজটি পানামা-পতাকাবাহী সেঞ্চুরিজ, যাতে প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল ছিল, যার গন্তব্য ছিল চীন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজটি নিজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ভেনেজুয়েলা তেল রপ্তানির জন্য ব্যাপকভাবে তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর ওপর নির্ভর করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার আশপাশের জলসীমায় চলাচলকারী ট্যাংকারগুলোর অর্ধেকের বেশি হয় ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে, নয়তো যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত পদক্ষেপের ঝুঁকিতে আছে। বর্তমানে অঞ্চলে থাকা ৭০টির বেশি শ্যাডো ফ্লিট জাহাজের মধ্যে অন্তত ৩৮টি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত, যেগুলোর অনেকগুলোতেই অপরিশোধিত বা পরিশোধিত জ্বালানি তেল বহন করা হচ্ছে।
এই অভিযান শুরুর পর ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি করে তেলের দাম বাড়াতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স










