ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে আইনজীবীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া সাত মন্ত্রীর মধ্যে পাঁচজনই সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত আইনজীবী।
মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে তারা শপথ গ্রহণ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে ২৮ জন আইনজীবী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ২৪ জন বিজয়ী হন। নির্বাচিত এই ২৪ আইনজীবীর মধ্য থেকে চারজন পূর্ণমন্ত্রী ও তিনজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে চার আইনজীবী
কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬৬ ভোটে জয়ী হন এবং তিনি জজ কোর্টের আইনজীবী।
মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।
ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন। তিনি ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোটে জয়ী হন এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।
রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য দিপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৪ ভোটে নির্বাচিত হন এবং তিনি জজ কোর্টের আইনজীবী।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী
নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।
চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৫ ভোটে বিজয়ী হন এবং সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত আইনজীবী।
নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি ১ লাখ ২ হাজার ৪১৯ ভোটে নির্বাচিত হন এবং সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত আইনজীবী।
আইনজীবীদের অংশগ্রহণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২৭০ জন আইনজীবী অংশ নেন, যার মধ্যে ৩৪ জন বিজয়ী হন। তাদের মধ্যে বিএনপি থেকে ২৪ জন এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে ৮ জন নির্বাচিত হন।
এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা-১ (সদর) আসন থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৪৩ ভোটে জয়ী হন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা (হাঁস প্রতীক) ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
-সাইমুন










