প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি গঠনের পর ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি প্রথম অংশগ্রহণ করে। ওই নির্বাচনে বিএনপি ২২০টি আসনে জয়লাভ করে। এরপর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসনে জয়লাভ করে। ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ৬ষ্ঠ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ২৮৭টি আসনে জয়ী হয়।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১১৬টি আসনে জয়লাভ করে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসনে জয়ী হয়। পিতা ও মায়ের রাজনৈতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি আরেক নতুন রেকর্ড গড়ে তুলেছে। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথম দায়িত্ব নিয়েই তিনি এই বিস্ময়কর রেকর্ড সৃষ্টি করলেন।
২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আটক হয়ে ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান তারেক রহমান। এরপর চিকিৎসার জন্য ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি সপরিবারে লন্ডনে পাড়ি জমান।
দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় মমতাময়ী মাকে হারান তারেক রহমান। গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে ছেড়ে জাগতিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলাদেশের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
মাতৃ বিয়োগের কঠিন শোক কাটতে না কাটতেই জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব প্রদানের কঠিন চ্যালেঞ্জ হাতে নিলেন অপেক্ষাকৃত তরুণ এ রাজনীতিবিদ। নিজেও দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সমগ্র বাংলাদেশের বেশির ভাগ এলাকা চষে বেড়ালেন দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায়। জীবনে প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও সরাসরি নেতৃত্ব প্রদানেই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিপক্ষের সব ষড়যন্ত্র ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মোকাবিলা করে দলের জন্য তিনি বয়ে আনেন এক অনন্য বিজয়। এবারের জাতীয় নির্বাচনে একমাত্র তিনিই দুটি আসনে (ঢাকা-১৭ ও বগুড়া- ৬) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই রেকর্ড বিজয় অর্জন করেন। ফলে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে। ফলে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়ে প্রথমবারেই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন এই তরুণ-তুর্কি রাজনীতিক তারেক রহমান।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন অপেক্ষাকৃত তরুণ রাজনীতিক দেশের বাইরে থেকে গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নেতৃত্ব দিয়ে সুসংগঠিত করে সম্পূর্ণ নিজের ক্যারিশমায় দলকে সাফল্যের শিকড়ে তুলে নেওয়ার রেকর্ড গড়লেন।
একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ও দলীয় পর্যায়ে ধৈর্যের পরিচয় দানের ক্ষেত্রেও তিনি আরেক রেকর্ড নজির তৈরি করলেন। দেশিবিদেশি চক্রান্তসহ প্রতিপক্ষের শত উসকানি সত্ত্বেও তিনি নিজেও যেমন কোনো ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেননি, তেমনি দলীয় নেতা-কর্মীদেরও এ ধরনের কোনো ফাঁদে পড়তে দেননি।
সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি অসীম ধৈর্যের পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অন্যায় বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা দেন। যারা এ নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন- তাদের বিরুদ্ধে নিয়েছেন সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে নিজের দলের সাড়ে সাত হাজার নেতা-কর্মীকে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতেই দল থেকে বহিষ্কার করে এক রেকর্ড সৃষ্টি করেন। তাঁর সবচেয়ে বড় পারফরমেন্স হলো- বিদেশে বসে তিনি শুধু নিজের দলের নেতৃত্বই দেননি- আগামী দিনের রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা সাজিয়েছেন তিনি।
৩১ দফা পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ডসহ মানুষের কর্মসংস্থান ও দেশের অর্থনৈতিক ভিত শক্তিশালী করার বাস্তবমুখী নানান পরিকল্পনা নিয়ে দেশে ফিরেই বললেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান, আই হ্যাভ আ ড্রিম’। যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিপক্ষের মাঝে প্রতিহিংসার উদ্ভব করলেও সারা দেশে জনসাধারণের মাঝে টনিকের মতো কাজ করেছে। এসব কিছুর বাইরেও তারেক রহমান মানবিকতায় এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতনের মাঝেও।
দেশের যেকোনো স্থানে কোনো মানুষ কিংবা পরিবারের কোনো সমস্যার কথা শোনা মাত্রই তিনি তাঁর দলের প্রতিনিধি পাঠিয়ে সমাধানমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। এজন্যে তাঁর নির্দেশনায় গঠিত ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ নামে একটি মানবিক সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতাও করে যাচ্ছেন। শুধু মানব সহযোগিতার মাঝেই তাঁর এই মানবিকতা সীমাবদ্ধ নয়, প্রাণী সেবায়ও তাঁর ভূমিকা এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন রাজধানীর বনানীতে ‘অ্যানিম্যাল হসপিটালের’ উদ্বোধনই তার সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের নেতৃত্বে ভূমিধস বিজয় এনে সরকার গঠনের এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
-সাইমুন










