পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ১৭০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় শহরের উপকণ্ঠ তাড়লাই কালান এলাকায় অবস্থিত খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে এই বিস্ফোরণ ঘটে। সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসআইএল (আইএসিস) হামলার দায় স্বীকার করেছে। খবর আলজাজিরা।
শনিবার নিহতদের দাফনে অংশ নিতে হাজারো শোকাহত মানুষ ইসলামাবাদে জড়ো হন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পেশোয়ারে সন্দেহভাজন হামলাকারীর আস্তানায় অভিযানে দুই ভাই ও এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
২০০৮ সালের পর ইসলামাবাদে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত তিন মাসে রাজধানীতে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের সন্ত্রাসী আক্রমণ, যা বড় শহরগুলোতে সহিংসতা ফের বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। আল জাজিরার ইসলামাবাদ প্রতিনিধি কামাল হায়দার জানান, স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে। তাদের মতে, গোয়েন্দা সংস্থার কাছে আগাম হুমকির তথ্য থাকলেও হামলা ঠেকানো যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই হামলাকে “ঘৃণ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” আখ্যা দিয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তির অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান ঐক্যবদ্ধ থাকবে। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি আন্তর্জাতিক মহলের সহমর্মিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা হামলার পেছনে ‘ভারত-সমর্থিত গোষ্ঠী’র সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি দাবি করেন, এ বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রমাণ ভাগাভাগি করা হয়েছে। তবে ভারত এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে “ভিত্তিহীন ও অর্থহীন” বলে অভিহিত করেছে এবং হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
-বেলাল হোসেন










