যদিও জন্ম ও বেড়ে ওঠা তাঁর বেলারুশের মিনস্কতে। টেনিস অনুশীলনের সুবিধার জন্য এখন তার স্থায়ী ঠিকানা যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নেও এখন একটি ঠিকানা খুঁজে নিতে পারেন এরিনা সাবালেঙ্কা। কেননা এই শহরেই টানা চতুর্থবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনাল খেলতে নামছেন তিনি।
শনিবার লর্ড লেভার অ্যারেনাতে ট্রফি জিতলে একটি মাইলফলকও স্পর্শ করতে পারেন, পঞ্চম গ্র্যান্ড স্লাম জিতবেন তিনি। তাঁর মুখোমুখি হচ্ছেন যিনি, কাজাখস্তানের সেই এলিনা রায়বানিকাও ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নন। টেনিসবিশ্বে ‘আইস কুইন’ বলা হয় তাঁকে তাঁর শান্ত স্বভাবের জন্য। তিন বছর আগে এই কোর্টেই ফাইনালে সাবালেঙ্কার কাছে হেরে গিয়েছিলেন কাজাখকন্যা। আগামীকাল তাঁর বদলা নেওয়ার পালা। যদিও দুজনের সর্বশেষ দেখায় গত বছর ডব্লিউটিএ ফাইনালে। এই রায়বানিকা হারিয়ে দিয়েছিলেন সাবালেঙ্কাকে। র্যাঙ্কিংয়ের এক আর পাঁচ নম্বরে থাকা দুই ক্রীড়াবিদের মধ্যে আগামীকাল ক্ল্যাসিক ফাইনাল দেখার অপেক্ষায় আছে টেনিসবিশ্বের সমর্থকরা।
সেখানে রায়বানিকারও অনন্য একটি রেকর্ড রয়েছে। ২০২২ সালে ক্যারিয়ারে একমাত্র গ্র্যান্ড স্লাম উইম্বলন্ডন জেতার পর মেয়েদের টেনিসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জিতেছেন তিনি। আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এই কাজাখকন্যার ফাইনাল ম্যাচের প্রথম সার্ভটাই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বর্পর্ণ। হার্ডকোর্টে দুজনের মুখোমুখি লড়াইয়ে এখনও পর্যন্ত ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে রায়বাকিনা। কোর্টে তাঁর আগ্রাসন আর সার্ভিস পাওয়ার সাবালেঙ্কার জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আগেরবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের মেডিসন কিসের এই পাওয়ারের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল সাবালেঙ্কাকে। সেই সঙ্গে বড় টুর্নামেন্টে বিশেষ করে গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে সাবালেঙ্কার অন্যতম একটি দুর্বলতা ‘নার্ভাসনেস’; যে কারণে এ পর্যন্ত সাতটি গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে উঠেও জিতেছেন চারটিতে; যার মধ্যে ২০২৩ ও ২০২৪ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ওপেন ২০২৪ ও ২০২৫ সালে।
অবশ্য গত দুই বছর দারুণ ফর্মে রয়েছেন সাবালেঙ্কা। শনিবারের ফাইনালেও তাঁর স্নায়ুর পরীক্ষায় নামতে হবে। চাপের মুহূর্তে ভেঙে পড়ার একটি বদনাম আছে তাঁর। যদিও এটিও সত্য যে টেনিসের উন্মুক্ত যুগে নারী টেনিস খেলোয়াড়দের মধ্যে সাবালেঙ্কা এমন একজন যিনি কিনা টানা ২০টি টাইব্রেক জয়ের রেকর্ড গড়েছেন। সব মিলিয়ে শনিবারের ফাইনালে ফেভারিট এই বেলারুশকন্যা। এটিও সত্যি যে এই মুহূর্তে এই সাবালেঙ্কাকে যে হারাতে পারে সেই তিনি আর অন্য কেউ নন–বছর সাতাশের এলিনা রায়বাকিনা। বিধ্বংসী সার্ভিসের জন্য যিনি এই মুহূর্তে টেনিসবিশ্বে সমাদৃত।
-সাইমুন










