পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত সিলওয়ান থেকে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপনের জোর তৎপরতা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই এলাকার ৩২টি ফিলিস্তিনি পরিবারকে আগামী মার্চের মাঝামাঝি অর্থাৎ রমজান মাসের শেষ নাগাদ ঘরবাড়ি ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনামা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেখিয়েছেন সিলওয়ানের এক বাসিন্দা কায়েদ রাজাবি।
তিনি জানান, তাকে এবং তার প্রতিবেশী পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের ভিটেমাটি এখন জেরুজালেমে ইহুদি বসতি স্থাপনের কাজ করে আসা ইহুদি সংগঠন ‘আতেরেত কোহানিম’-এর হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ওই এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টি ভবন দখল করে বড় বড় ইসরায়েলি পতাকা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবনগুলো ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের দখলে থাকার চিহ্ন হয়ে আছে এসব পাতাকা।
কায়েদ রাজাবি বলেন, তার পরিবার ১৯৬৭ সাল থেকে সিলওয়ানের বাড়িতে বাস করছে এবং এক জর্ডানি কর্মকর্তার কাছ থেকে এই জমি কেনা হয়েছিল।তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “যে বাড়িতে আমি জন্মেছি, যে বাড়িতে প্রথম চোখ মেলেছি, সেখান থেকে আজ আমাকে জোর করে বের করে দেওয়া হচ্ছে।”
অন্যদিকে, ইহুদি সংগঠন আতেরেত কোহানিম-এর নির্বাহী পরিচালক ড্যানিয়েল লুরিয়া সিলওয়ানে বাস করা ফিলিস্তিনিদের ‘অবৈধ দখলদার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তার দাবি, ১৯২৯ সালের আগে এই জমির মালিক ছিল ইয়েমেনি ইহুদিরা এবং সেখানে পুনরায় তাদেরকে ফিরিয়ে আনা ঐতিহাসিক একটি অন্যায় সংশোধন করার শামিল। তবে উচ্ছেদ নোটিশ পাওয়া ফিলিস্তিনি বাসিন্দা রাজাবি এই দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে চায়। তবে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ স্পষ্ট করে বলেছেন, তাদের লক্ষ্য হল ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণার‘কবর রচনা’।
ইসরায়েল পুরো জেরুজালেমকে তাদের অবিভাজ্য রাজধানী মনে করে, যদিও আন্তর্জাতিকভাবে এর স্বীকৃতি নেই। সিলওয়ান এলাকাটি আল-আকসা মসজিদের খুব কাছে হওয়ায় এটি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোতে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ এবং সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজাবি জানান, আতেরেত কোহানিম তাকে বাড়ি ছাড়ার বিনিময়ে একটি ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ (টাকার অংক খালি রাখা চেক) সাধলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, “আমি তাদের এক কণা মাটিও দেব না। তারা বলেছিল যত খুশি টাকার অংক বসান, আমরা তা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু আমি রাজি হইনি।”
ইহুদি সংগঠনটির প্রধান ড্যানিয়েল লুরিয়া একে তাদের ‘জায়নবাদী স্বপ্ন’ পূরণের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি পরিবারই তাদের ভিটেমাটি ছাড়তে নারাজ, কারণ তারা মনে করে একবার ঘর ছাড়লে তাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন চিরতরে শেষ হয়ে যেতে পারে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক প্রস্তাবনাতেও ইসরায়েলকে ইহুদি বসতিস্থপন কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ইসরায়েল সরকারের ভাষ্য, এই বসতিস্থাপন তাদের দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফিলিস্তিনিরা উচ্ছেদের নোটিশ না মানলে সশস্ত্র পুলিশ গিয়ে তাদেরকে উচ্ছেদ করবে এবং তাদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
-সাইমুন










