দ্বীপ জেলা ভোলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ভোলা-১ (সদর) আসন। এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটি পুনরুদ্ধারে এবার মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। অন্যদিকে এই আসনে চমক দেখাতে চায় জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
ত্রিমুখী এই লড়াইকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ এক দশক পর ভোলার নির্বাচনী মাঠে এখন টানটান উত্তেজনা। বিজেপির সাবেক চেয়ারম্যান নাজিউর রহমান মঞ্জু, বিএনপির মোশারেফ হোসেন শাজাহান ও আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদের মতো হেভিওয়েট নেতাদের এই আসনে ২০০৮ সালে প্রথমবার অংশ নিয়েই বাজিমাত করেন তরুণ ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।
গত ২৪ জানুয়ারি বিশাল শোডাউনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন ব্যারিস্টার পার্থ। শুরুতে জেলা বিএনপির সঙ্গে কিছুটা টানাপোড়েন থাকলেও এখন সব মান-অভিমান ভুলে বিএনপি ও বিজেপির নেতাকর্মীরা একসঙ্গে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
প্রচারণার ফাঁকে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণসহ ভোলার সার্বিক উন্নয়নে জাতীয় সংসদে যোগ্য প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন। প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটাররা কাকে বিশ্বাস করবেন– সেটাই বড় বিষয়। বিএনপি আমাকে সমর্থন করেছে এবং তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আমি কোনো নির্দিষ্ট দলের বা মার্কার নই। আমি সবার। ইনশাআল্লাহ, ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্বাসের ফল ব্যালটের মাধ্যমে আসবে।’
তবে পার্থর জয়ের পথে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম। দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সুবাদে তিনি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। সংসদে ব্যারিস্টার পার্থর অভিজ্ঞতার কথা স্বীকার করলেও নজরুল ইসলাম সমালোচনা করে বলেন, ‘তিনি আগে সংসদে থাকলেও ভোলার মৌলিক সমস্যা সমাধানে কোনো ভূমিকা রাখেননি। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। জামায়াতে ইসলামীর প্রতি জনগণের বিপুল আশা রয়েছে এবং আমরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’
মাঠের প্রচারণায় পিছিয়ে নেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মো. ওবায়দুর রহমান। বিগত দিনে স্থানীয় ও জাতীয় নানা ইস্যুতে রাজপথে সক্রিয় থাকা এই দল এবার ‘হাতপাখা’ প্রতীকে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে চায়। ওবায়দুর রহমান জানান, সাধারণ মানুষের মধ্যে হাতপাখার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে এবং নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে ফল তাদের পক্ষেই আসবে।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী মো. আকবর হোসাইনের সাংগঠনিক তৎপরতা এবং প্রচারণায় খুব একটা গতি দেখা যায়নি। নির্বাচনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদের আইনুর রহমান জুয়েল মিয়া, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. আশ্রাফ আলী, এনপিপির মিজানুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিজুল হোসেন।
৪ লাখ ১ হাজার ২৮৭ জন ভোটারের এই আসনে শেষ পর্যন্ত তরুণ প্রজন্মের ক্রেজ পার্থ, নাকি জামায়াত– ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক শক্তি জয়ী হয়, দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো জেলা।
-সাইমুন










