দলীয় বৃত্তের বাইরে গিয়ে আমি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হতে চাই: রাজিব উদ দৌলা চৌধুরী

নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ আসনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে মো. রাজিব উদ দৌলা চৌধুরী এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সাংবাদিক, লেখক, কলামিস্ট ও সমাজসেবক রাজিব উদ দৌলা চৌধুরী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও তার নির্বাচনি ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয় আলোকিত স্বদেশের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দেলোয়ার মহিন

প্রশ্ন: আপনি দীর্ঘ সময় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। হঠাৎ সক্রিয় রাজনীতিতে এবং সরাসরি সংসদ নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন?

রাজিব উদ দৌলা: দেখুন, সাংবাদিকতা করার সুবাদে আমি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা সমস্যাগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছি। বিশেষ করে আমার জন্মস্থান বেগমগঞ্জের মানুষের কষ্ট এবং উন্নয়নের নামে চলা স্থবিরতা আমাকে ব্যথিত করেছে। আমার নিজের সততা, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং দীর্ঘ সময় এলাকাবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে থাকার অভিজ্ঞতা থেকেই মনে হয়েছে, এখন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গিয়ে সেবা করার সময় এসেছে। এলাকাবাসীও চাচ্ছিলেন আমি মাঠে আসি। তাদের সেই ভালোবাসা ও দাবির প্রতি সম্মান জানাতেই আমার এই সিদ্ধান্ত।

প্রশ্ন: কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত না হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিশেষ কারণ কী?

রাজিব উদ দৌলা: বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা সমালোচনা আছে। দলীয় বৃত্তের বাইরে গিয়ে আমি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হতে চাই। যখন কেউ কোনো দল থেকে প্রার্থী হন, তখন জনগণের চেয়ে দলের এজেন্ডাকে বেশি প্রাধান্য দিতে হয়। আমি চাই কোনো বলয়ের অন্তর্ভুক্ত না থেকে মানুষের আস্থার ঠিকানা হতে। জনগণ এখন একজন ‘স্বজন’ এবং ‘ক্লিন ইমেজের’ প্রার্থী খুঁজছে, যার কোনো দলীয় পিছুটান থাকবে না।

প্রশ্ন: নির্বাচনে আপনার মূল শক্তি বা সম্ভাবনাগুলো কী কী?

রাজিব উদ দৌলা: আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের ভালোবাসা। বিটিভিসহ দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোতে কাজ করার সুবাদে আমার একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। এছাড়া আমার পারিবারিক সুনামও মানুষের কাছে একটি আস্থার জায়গা। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা এবার সচেতন। তারা পরিবর্তনের পক্ষে। বেগমগঞ্জে অন্যান্য দলের হেভিওয়েট প্রার্থী থাকলেও তারা জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে সমালোচিত। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই আমি লড়াই করছি। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, ইনশাআল্লাহ আমি জয়ী হব।

প্রশ্ন: প্রার্থী হিসেবে মাঠের পরিস্থিতি এখন কেমন দেখছেন?

রাজিব উদ দৌলা: আলহামদুলিল্লাহ, পরিস্থিতি খুবই ইতিবাচক ও প্রাণবন্ত। প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকে সর্বস্তরের মানুষের যে সমর্থন পাচ্ছি, তা আমাকে অভিভূত করেছে। আমি মোরগ মার্কা প্রতীক নিয়ে নিয়মিত উঠান বৈঠক, পথসভা ও মতবিনিময় করছি। তরুণ, মুরব্বি, নারীÑ সবাই পরিবর্তনের কথা বলছেন। মানুষের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারছিÑ এটাই আমার বড় প্রাপ্তি।

প্রশ্ন: আপনার নির্বাচনি প্রচারণা ও পরবর্তী লক্ষ্য নিয়ে কিছু বলুন।

রাজিব উদ দৌলা: আমরা নির্বাচনি আইন ও আচরণবিধি মেনে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাচ্ছি। আমি চাই বেগমগঞ্জে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু হোক। জনগণের এই বিপুল সাড়া আমাকে আরও দায়বদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করেছে। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ এবার ব্যক্তির সততা ও যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করবে। ইনশাআল্লাহ, জনগণের এই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।

-মামুন