ভোটের ফল নিয়ে বিরোধ সামাল দেওয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) গতকাল সোমবার এক বিশ্লেষণে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্রাইসিস গ্রুপ এই বিশ্লেষণ প্রকাশ করে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র কনসালট্যান্ট থমাস কিন বলেন, গত দেড় বছরে রাজনৈতিক রূপান্তরের পথে কিছু অগ্রগতি হলেও নিরাপত্তা, সংস্কার ও রাজনৈতিক আস্থার ঘাটতি রয়ে গেছে।
এসবের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করছে অন্তর্বর্তী সরকার।বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচন হবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। মূল লড়াই হবে দুটি জোটের মধ্যে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় দলটির বিপুলসংখ্যক সমর্থক কার্যত ভোটের বাইরে থাকছেন।
এটি রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।বিশ্লেষণে অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা ও বিচার বিভাগের সংস্কার নিয়ে এই সনদে বিএনপি, জামায়াতসহ ২৫টি দল সই করলেও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া এবং পুলিশের প্রতি জন-আস্থার সংকটকেও বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছে ক্রাইসিস গ্রুপ। তফসিল ঘোষণার পর থেকে একাধিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরো উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
ক্রাইসিস গ্রুপের মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেড় বছর ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের টিকে থাকা অনেকটাই নির্ভর করেছে সেনাবাহিনী ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গড়ে ওঠা সমঝোতার ওপর। কিন্তু ভোটের ফল নিয়ে বড় ধরনের বিরোধ দেখা দিলে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়তে পারে এবং তা রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে। এটি ইউনূস সরকারের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে।
-সাইমুন