দিনাজপুরে ঐতিহাসিক তেভাগা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তরা

যাদব চন্দ্র রায়,বিভাগীয় ব্যুরো চীফ, রংপুর :

“তেভাগার চেতনা ভূলিনাই-ভুলবনা” -এই স্লোগানকে সামনে রেখে মঙ্গলবার রাতে দিনাজপুর নাট্য সমিতির মঞ্চে তেভাগা পরিষদ দিনাজপুর এর আয়োজনে ঐতিহাসিক তেভাগা দিবস-২০২৩ পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চিরিরবন্দর উপজেলার তালপুকুর-বাজিতপুর তেভাগা স্মৃতিসৌধে পুষ্প অর্পণ প্রদান করা হয়েছে।

তেভাগা পরিষদ দিনাজপুর এর আহবায়ক আবুল কালাম আজদের সভাপতিত্বে মূখ্য আলোচ্যক হিসেবে আলোচনা করেন বীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও গবেষক ড. মাসুদুল হক, কমিউনিষ্ট পার্টি বাংলাদেশ দিনাজপুর জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি আলতাব হোসাইন, দিনাজপুর নাট্য সমিতির সভাপতি চিত্ত ঘোষ, বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কমরেড হবিবুর রহমান, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদুল্লাহ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট দিনাজপুর এর সভাপতি সুলতান কামাল উদ্দীন বাচ্চু, স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন তেভাগা পরিষদের সদস্য সচিব এ্যাডঃ মোঃ রেয়াজুল ইসলাম রাজু।

অনুষ্ঠানে  শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এনজিও ব্যক্তিত্ব মোঃ তোজাম্মেল হক, কমিউনিষ্ট পার্টি দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি এ্যাডঃ মেহেরুল ইসলাম, বাসদ নেতা কমরেড সারওয়ার হোসেন ক্লিপ্টন, কমরেড শ্রী সিদাম দাস, সাংবাদিক ও গবেষক আজহারুল আজাদ জুয়েল, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক তারেকুজ্জামান তারেক, হাজী মোহাম্মদ দানেশ এর নাতি সুলতান উল নাঈম, টিউলিপ স্কুলের শিক্ষক মকিদ হায়দার শিপন, তেভাগা আন্দোলনে শহীদ কৃষক শমির উদ্দীনের নাতনি জ্যে¯œা খাতুন। বক্তার বলেন, তেভাগা আন্দোলন ছিল মূলত শ্রেনিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার বিপ্লব। তেভাগা আন্দোলনের মধ্যে ছোট ছোট অনেক অর্জন রয়েছে যা আমাদের রাষ্ট্র কাঠামোতে পরিবর্তন এনেছে। পাশাপাশি কৃষকরা এখনও ফসলের ন্যায্য দাম পায় না। সে ব্যর্থতাও আমাদের রয়েছে। তার পরেও তেভাগা আন্দোলন সমন্ধে আমাদের প্রজন্মদের জানাতে হবে। আলোচনা সভা শেষে ভৈরবীর পরিবেশনায় ও সাধারণ সম্পাদক রহমতুল্লাহ এর পরিচালনায় তেভাগার উপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সার্বিক তত্ত্বাধায়নে ছিলেন অমৃত রায়।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় চিরিরবন্দর উপজেলায় তালপুকুর-বাজিতপুর গ্রামে তেভাগা স্মৃতিসৌধে নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অপর্ণ করেন। উল্লেখ্য তেভাগা আন্দোলন ১৯৪৬ সালের ডিসেম্বরের শুরু হয়ে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত চলে। বর্গা বা ভাগ চাষীরা এতে অংশ নেয়। মোট উৎপন্ন ফসলের ৩ ভাগের ২ ভাগ পাবে চাষী, এক ভাগ জমির মালিক- এই দাবী থেকেই তেভাগা আন্দোলনের সূত্রপাত। দিনাজপুরে এই আন্দোলনের জনক ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ, গুরুদাস তালুকদার ও রূপ নারায়ণ।